সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার শুমেশ্বরী নদী ক্রমেই নাব্যতা হারাচ্ছে এবং চরে পরিণত হচ্ছে। প্রায় দেড়শ বছর আগে নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠা মধ্যনগর বাজার এখন নদীর সংকটে অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে আছে।
নদীপথ বন্ধ হওয়ার কারণে বাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার প্রধান মাধ্যম নদী হওয়ায় মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়েছে। হেমন্তে নদীর পানি কমে তলদেশ ভেসে ওঠায় বড় নৌকা চলাচল প্রায় তিন থেকে চার মাস বন্ধ থাকে। অনেক স্থানে মালামাল নামিয়ে নৌকা বদল করতে হয়, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়িয়েছে।
মধ্যনগর বাজার আড়ৎ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুণ রায় বলেন, আগে এক নৌকাতেই এক হাজার মণ ধান আনা-নেওয়া হতো, এখন ছোট নৌকায় ভাগ করে আনা হয়। স্থানীয় নৌকার মাঝি মো. শফিক মিয়া জানান, নদীর তলদেশ অনেক জায়গায় ভরাট হওয়ায় নৌকা টেনে নিতে হয় এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে গেছে।
মধ্যনগর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শম্ভুরা বলেন, পরিবহন খরচ বাড়ায় পণ্যের দামও বেড়েছে, ক্রেতাদের সঙ্গে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। নদীপথ হারানোর কারণে পাইকাররা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মুখলেছ মিয়া এবং মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল বাশার মনে করেন, নদী বাঁচলে বাজারও বাঁচবে। দ্রুত খননকাজ না হলে মধ্যনগর বাজার তার ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব হারাবে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, শুমেশ্বরী ও গুমাই নদী খনন করা অত্যন্ত জরুরি। খনন হলে হাওর এলাকার কৃষি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বন্যা ঝুঁকি কমবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, শুমেশ্বরী নদী সমন্বিত ড্রেজিং প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে এবং অনুমোদন মিললে খননকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।