ঢাকা-১ (দোহার–নবাবগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মাওলানা নজরুল ইসলাম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জ উন্নয়ন বঞ্চিত থাকলেও জনগণের সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্বের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাজনীতির প্রশ্রয়ে এলাকায় বারবার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর জনগণ এখন এমন নেতৃত্ব চায়, যারা সৎ, শিক্ষিত ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসবে। আমি একজন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দোহার ও নবাবগঞ্জকে একটি মানবিক, উন্নয়নমুখী ও প্রবাসীবান্ধব জনপদে রূপ দিতে চাই।”
নির্বাচনী ইশতেহারে মোট ১৪টি খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো—
প্রবাসী সেবা:
প্রবাসী সহায়তা সেল গঠন, সম্পত্তি সুরক্ষায় আইনি সহায়তা, দোহার–নবাবগঞ্জে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) স্থাপন এবং বিদেশগামীদের প্রতারণা রোধ।
নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:
প্রতিটি গ্রামে নারী উন্নয়ন কেন্দ্র, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ঋণ ও থানায় ২৪/৭ নারী-শিশু সহায়তা সেল গঠন।
স্বাস্থ্যসেবা:
দুই উপজেলার সরকারি হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সকল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে নিশ্চিতকরণ, মা ও শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র, টেলিমেডিসিন ও স্বল্পমূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
শিক্ষা:
দোহারে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নবাবগঞ্জে নার্সিং ইনস্টিটিউট, অনার্স কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ।
অবকাঠামো ও পরিবহন:
প্রস্তাবিত মেট্রোরেল দোহার–নবাবগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণ, আধুনিক বাস ও নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ।
কৃষি, তাঁত ও কর্মসংস্থান:
কৃষক কল্যাণ ট্রাস্ট, তাঁত বোর্ড শক্তিশালীকরণ, দোহার–নবাবগঞ্জের লুঙ্গি ও জলসিরা মিষ্টিকে GI পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির উদ্যোগ।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা:
‘হ্যালো এমপি ২৪/৭’ হেল্পলাইন, ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানি, উন্মুক্ত বাজেট ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছ বণ্টন।
যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান:
ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ‘যাকাত ব্যাংক’ স্থাপন এবং ১০ বছরের মধ্যে বেকারমুক্ত উপজেলা গড়ার লক্ষ্য।
নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তন:
পদ্মা, ইছামতী ও কালিগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ, বৃক্ষরোপণ ও স্লুইসগেট নির্মাণ।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া:
প্রতি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম, ক্রীড়া লীগ, লোকসংস্কৃতি কেন্দ্র ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ।
ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, “দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রতিটি নাগরিককে ধর্ম নয়, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সমঅধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। কোনো হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা থাকবে না এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে থাকবে জিরো টলারেন্স।”
ইশতেহার ঘোষণার শেষে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে পাঁচ বছরের মধ্যে দোহার ও নবাবগঞ্জকে একটি মডেল উন্নয়ন অঞ্চলে পরিণত করা হবে।
স্লোগান:
“পরিবর্তনের পথে, উন্নয়নের যাত্রায়—
ভোট হোক ইনসাফের দাঁড়িপাল্লায়।”
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাই সিমাবদ্ধ নয় আরও অনেক পরিকল্পনা আছে যা নির্বাচিত হলে ধাপে ধাপে করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।