আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে তরুণরা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনে জয়ী হবে। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, জুলাই চার্টার প্রস্তুত হয়েছে এবং ভোটের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
সম্মেলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল সম্ভাবনা অনেক সময় কাজে লাগানো যায় না। তবে শিক্ষা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু চাকরির উপযোগী মানুষ তৈরি করার জন্য নয়; বরং সৃজনশীল, স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে—এমন উদ্ভাবনী মানুষ গড়ে তোলাই শিক্ষার আসল লক্ষ্য। মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল হলেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় সেই সৃজনশীলতাকে দমিয়ে রেখে কেবল চাকরির প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ করে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, শিক্ষাকে শুধু চাকরির মাধ্যম হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাশক্তি জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে ভাবতে শেখানো জরুরি।
তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলা, কল্পনাশক্তি বাড়ানো এবং নতুন কিছু তৈরি করার আগ্রহ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্ব দেন।
দক্ষিণ এশীয় এই উচ্চশিক্ষা সম্মেলন চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পরিচালিত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশনের মধ্যে সহযোগিতা ও নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে মোট আটটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে আলোচনা হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি এবং গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততা নিয়ে।
দ্বিতীয় দিনে গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ব্যবস্থা, গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অংশীজনদের সংলাপ এবং উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা।
সম্মেলনের শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার বিষয়ক আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।