মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। কাতার থেকে পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো ঢাকায় পৌঁছালে ৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার যেকোনো সময় তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, কাতার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি সমস্যা থাকায় কিছুটা দেরি হতে পারে। বিকল্প কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে। এদিকে ডা. জোবাইদা রহমান ৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং তিনিও লন্ডন যাত্রায় সঙ্গে থাকবেন।
বিমানবন্দর পৌঁছে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন এবং সেখান থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে রওনা হবেন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়াকে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হবে। জানা গেছে, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এসএসএফের নিরাপত্তায় হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হবে।
এদিকে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কাতারের আমিরের দেওয়া বিশেষ সুবিধাযুক্ত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো এলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুই পুত্রবধূ, ছয়জন চিকিৎসক ও ব্যক্তিগত সহকর্মীসহ মোট ১৫ জন যাবেন। লন্ডনে বড় ছেলে তারেক রহমান বিমানবন্দরে তার মা’কে গ্রহণ করবেন। প্রায় সাত মাস পর মায়ের সঙ্গে ছেলের দেখা হবে। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে এক ব্রিফিংয়ে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বোর্ড তাকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে তাকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর বা শুক্রবার সকালেই লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। যাত্রাপথে চিকিৎসার জন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও সঙ্গে থাকবেন।
বেলা তিনটার পর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই কাতার থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছবে এবং শুক্রবার ভোরের মধ্যে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, খালেদা জিয়া ১৩ দিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, শারীরিক অবস্থা পূর্বের মতোই রয়েছে। ফুসফুসের সংক্রমণ কিছুটা কমলেও হৃদযন্ত্রে জটিলতা রয়ে গেছে।
এরই মধ্যে চারজন চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড বেলে ঢাকায় এসে চিকিৎসা বোর্ডে যোগ দিয়েছেন। তারা খালেদা জিয়ার সর্বশেষ রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন। এর আগে জানুয়ারিতে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং চার মাস চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় ভর্তি করা হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লন্ডনে তার সঙ্গে যাবেন মোট ১৫ জন—দুই পুত্রবধূসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক, নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারী। চিকিৎসা শেষে তিনি কবে দেশে ফিরতে পারবেন—এ বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনো কিছু জানাতে পারেননি। দেশজুড়ে তার সুস্থতার জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা দোয়া করছেন। ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি কারাবন্দি হন এবং দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান। এরপর থেকে কয়েকবার মেয়াদ বাড়িয়ে মুক্তি বজায় থাকে। এ সময় তাকে অনেকবার হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার আবেদন আগের সরকার গ্রহণ করেনি। তার হার্টে পেসমেকার বসানো হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের সহায়তায় আরও চিকিৎসা সম্পন্ন হয়।
ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ীই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন বলে জানান তিনি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার দেশের সব উপসনালয়ে তার রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।