পুরান ঢাকার বাসিন্দারা মনে করেন, তারা প্রতিদিন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। আরমানিটোলার আবদুর রহিম বলেন, কোনো বিপর্যয় ঘটলেই সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিবর্তন হয় না।
এলাকায় এখনো বহু পুরনো ও ভাঙাচোরা ভবন আছে, যেগুলো শক্ত কোনো ভূমিকম্পে মুহূর্তেই ধসে পড়তে পারে। বংশালের কেপি ঘোষ রোডে একটি ভবন বহুদিন ধরে পাশের দিকে হেলে আছে, কিন্তু তাতেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে কসাইটুলীর একটি ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন জন প্রাণ হারান। স্থানীয়দের অভিযোগ—রেলিং আগেই দুর্বল ছিল, সময়মতো মেরামত করা হলে হয়তো এমন মৃত্যু হতো না।
পুরান ঢাকার বহু রাস্তা এত সরু যে কোনো দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার সুযোগ নেই। বিদ্যুতের তার, ডিশলাইন আর ইন্টারনেট তার সবকিছু জট পাকিয়ে ঝুলে আছে। পুরনো অগ্নিকাণ্ডের পরও রাসায়নিক গুদাম ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রয়ে গেছে, যা ভূমিকম্পে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে।
নিমতলী (২০১০) ও চুড়িহাট্টার (২০১৯) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অনেক আন্দোলন হলেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে আবারও এসব ঝুঁকির বিষয় সামনে এসেছে।
কসাইটুলীর বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, “এখানকার রাস্তাগুলো এত সরু যে দুর্ঘটনা হলে পালানোর উপায় থাকে না। আগুন বা ভূমিকম্পে এলাকা পুরোপুরি বিপদের মুখে। একে মৃত্যুকূপ বললে বাড়িয়ে বলা হবে না।”
ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরান ঢাকার ৮০–৯০% ভবনে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই, তবুও হাজারো মানুষ এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।