সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেটে প্রকাশ করেছে, যাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষর করেছেন।
বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ গেজেট জারি করে। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ তথ্য তুলে ধরেন।
আদেশে বলা হয়, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও ইচ্ছার প্রকাশ ঘটায়। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলেই ৫ আগস্ট ২০২৪ তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটে। পরদিন ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয় এবং ৮ আগস্ট গঠিত হয় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, যা দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা অর্জন করে।
রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার, সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, নির্বাচন প্রক্রিয়া, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এ কমিশনগুলো নিজ নিজ প্রতিবেদন সরকারকে জমা দেয়।
আরও বলা হয়, এসব প্রতিবেদনের সুপারিশে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রস্তুত করে, যাতে সবাই যৌথভাবে স্বাক্ষর করে সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার কার্যকর করতে জনগণের সার্বভৌম অনুমোদন প্রয়োজন। তাই গণভোট আয়োজন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার প্রণয়ন আবশ্যক।
এ কারণে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের প্রদর্শিত ক্ষমতা ও অভিপ্রায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করেন। আদেশটির নাম রাখা হয় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৩৩ শিশু, বহু তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষের প্রাণহানি এবং অসংখ্য মানুষের অঙ্গহানির যে ত্যাগ—তা জাতিকে সম্মান জানাতে হবে।
গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের পথে দেশ এগোবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করব—নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে আমরা পৌঁছে গেছি।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।