নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন কার্যকর না করার জন্য আরও পাঁচটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলা এবং সদর থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা– মোট পাঁচ মামলায় সোমবার ও মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন করা হয়। এসব মামলার কোনো এজাহারেই আইভীর নাম ছিল না।
আইভীর আইনজীবীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রভাবেই পুলিশ এসব মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান, আইভীকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা ১০০–১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আইভীর বিরুদ্ধে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে ফতুল্লা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ইয়াসিন, আব্দুর রহমান, পারভেজ ও আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলাগুলোর তদন্তে আইভীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো. কাউয়ুম খান জানান, এসব আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ১৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এর আগে ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দেন। আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, “একজন স্বচ্ছ রাজনীতিক হিসেবে তার জামিনে ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রশাসন ও পুলিশকে প্রভাবিত করে এই আবেদন করিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই মামলাগুলো বহুদিন আগে দায়ের ও তদন্ত শেষ হয়েছিল। অথচ জামিন পাওয়ার পরই হঠাৎ শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন—এতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনোভাব স্পষ্ট।”
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আইভীর জামিনের পর তিনি বেরিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেন—এ কারণেই প্রশাসন তার বিষয়ে সতর্ক আছে। আইন নিজস্ব গতিতেই চলছে।”
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, “এই আবেদন কোনো রাজনৈতিক চাপের কারণে নয়। তাকে গ্রেফতারের সময় বহু মানুষ বাধা দিয়েছিল, যা তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনের ফল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তদন্ত কর্মকর্তারা শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছেন।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।