পুরান ঢাকার আরমানিটোলা পানির পাম্প গলির একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ভবনের একটি বাসায় তিনি টিউশনি পাঠাতেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মর্গে নেওয়া হয়। মামলার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জোবায়েদের ওই ছাত্রীকে পুলিশে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে লাল ও কালো জামা পরা দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালানো হচ্ছে।
জোবায়েদ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ফরাশগঞ্জে মেসে থাকতেন।
লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা দুজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।’ তিনি হত্যার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ভবনের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।’
উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে বংশালের নূরবক্স রোডের মাথা এলাকায় কালো টি-শার্ট পরা এবং পিঠে কালো ব্যাগ নিনয়ে দুই যুবক দৌড়ে বংশাল রোডের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশ ধারণা করছে, তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত; তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভবনটির আশপাশে জবি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা জন্মেন এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারের জন্য চার ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘আমরা আমাদের ভাই জোবায়েদের হত্যার বিচার চাই। কোনো টালবাহানা চলবে না। আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ পরে জোবায়েদের ওই ছাত্রীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ তার সহপাঠীরা রাত ১০টার দিকে জোবায়েদ হোসেন হত্যার ন্যায় বিচারের দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে। রাত ১২টা পর্যন্ত (এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিউশনি করতে এসে আমাদের একজন ছাত্রকে খুন করা হয়েছে—এটি মোটেও কাম্য নয়। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ছাত্রের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-শিক্ষকরা মাঠে থাকবে। ঘটনায় সবচেয়ে বড় সন্দেহভাজন সেই ছাত্রীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লালবাগ জোনের ডিসি জানিয়েছেন আরও সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে; তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, মামলার প্রক্রিয়াও চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আমরা শোকাহত।’
সূত্র: কালবেলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।