ইমামতি করে টাকা জমিয়ে হেলিকপ্টারে রাজকীয়ভাবে বিয়ে করতে গেলেন রাজবাড়ীর হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামে এমন রাজকীয় বিয়ের আয়োজন হয়। বর একই গ্রামের আবুল হোসেন ক্লাব মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যান ও একই মাঠে তিনি হেলিকপ্টারে করে বউ নিয়ে নামেন।
ভবদিয়ার আবুল হোসেন ক্লাব মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করলে আশ-পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধা ভিড় জমায়। বিকেলে বর-কনে নব দম্পতি আবার ফিরে আসার সংবাদ শুনে আবারও উৎসুক জনতার ঢল নামে। এমন রাজকীয় বিয়ে দেখতে মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করে।
বর হাফেজ মোঃ রুহুল আমিন সদর উপজেলার বরাত ইউনিয়নের ভবদিয়া গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেন হেলালীর ছেলে। তিনি দাদশী মাজার জামে মসজিদের ইমাম এবং তাদের নিজস্ব মাদ্রাসা রয়েছে।
স্থানীয় ও বরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিনের ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল হেলিকপ্টারে চড়ে সে বিয়ে করতে যাবে। এজন্য সে ইমামতি করে স্বল্প আয়ের মধ্যেও টাকা জমিয়েছিল। তার জমানো টাকা ও বাবার কিছু জমানো টাকা দিয়ে সে হেলিকপ্টারে ঝিনাইদহ জেলায় বিয়ে করতে যায়।
বর হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, আমি ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে হাফিজ পড়া শেষ করেছি। হাফিজ পড়া শেষ করার পর বাবা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কী চাও? তারপর আমি বললাম যে আমি হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে যেতে চাই। তখন বাবা বললেন যে তোমার বাবা, আল্লাহ তোমার ইচ্ছা পূরণ করুন। আমার বাবা সবসময় এই বিষয়ে পরিশ্রমী ছিলেন। আল্লাহর অসীম রহমতে, আমি হেলিকপ্টারে ঝিনাইদহে বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমার স্ত্রীও একজন হাফিজ।
রুহুল আমিনের বাবা মোশাররফ হোসেন হেলালী বলেন, "আমার ছেলে ১০ বছর বয়সে হাফিজ হয়ে যায়। তারপর আমি তাকে বললাম, 'বাবা, তুমি আমার কাছ থেকে কী চাও?'" আমি মনে মনে ভাবলাম, সে সাইকেলের চেয়ে আর কী চাইতে পারে। তারপর সে তার দাদা এবং দাদীকে সাথে করে নিয়ে এসে বলল যে আমি যদি বিয়ের জন্য উপযুক্ত হই, তাহলে আমি হেলিকপ্টারে বিয়ে করব। তারপর আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম। আমার ছেলে যখন বিয়ের জন্য উপযুক্ত হবে, তখন আমি মেয়েদের খোঁজা শুরু করব। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আমার একটি মেয়ে পছন্দ হয়েছিল। পরে আমি আমার ছেলেকে বললাম। তারপর সে বলল, বাবা, হেলিকপ্টার ছাড়া আমি বিয়ে করব না। তুমি আমাকে আশ্বস্ত করেছ।
সে আরও বলল, আমার ছেলে আগে জামাত পরিচালনা করত এবং ৮-১০ হাজার টাকা বেতন পেত। তার বেতন থেকে সে প্রতি মাসে কিছু টাকা সঞ্চয় করত। আমার ছেলে যে টাকা জমাত এবং আমি কিছু টাকা দিয়েছিলাম, তা দিয়ে আমি তাকে হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে পাঠিয়েছিলাম। আমার ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি।
বরাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শামসুদ্দিন বলেন, এই গ্রামে আগে কখনও এমন রাজকীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়নি। এখানকার উৎসাহী মানুষের উপস্থিতি দেখে খুব ভালো লাগছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।