মোংলা বন্দরের বেসক্রিকে অবস্থানরত ‘এমভি সেজুঁতি’ নামক বাণিজ্যিক জাহাজে সোমবার দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জাহাজের ক্রু ও স্টাফদের জিম্মি এবং মারধর করে বিয়ারিংসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয় একদল ডাকাত। মঙ্গলবার (২৭ মে) কোস্টগার্ড মোংলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করে। উদ্ধার করা হয়ে বেশ কিছু মালামাল।
বুধবার (২৮ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড পশ্চিমজোনের অপারেশনস কর্মকর্তা আবরার হাসান বলেন, মোংলা বন্দর সংলগ্ন বেইস ক্রিক এলাকায় নোঙর করে রাখা এমবি সেজুতি নামক একটি জাহাজে ১২ জনের সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে নাবিকদের জিম্মি করে বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড মোংলা এলাকায় একাধিক অভিযান করে ডাকাতদের আটকসহ এসব মালামাল উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে জাহাজে ডাকাতির এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো। এর সাথে জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য নাবিক ও স্থানীয় দুষ্কৃতকারীরা জড়িত। তারা জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে মিলে এই ডাকাতির নাটক সাজিয়ে লুটকৃত মালামাল বিক্রির মাধ্যমে অর্থ ভাগাভাগির পরিকল্পনা করেছিল।
তিনি বলেন, জাহাজের অধিকাংশ নাবিক গত ৬/৭ মাস ধরে বেতন পায় না। এতে করে নাবিকদের মধ্যে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এর আগেও জাহাজ থেকে মেশিনারিজ পার্টস বিক্রি করে দেওয়া হয়। জাহাজের মালিক পক্ষ ক্যাপ্টেন সাহিকুলকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করলেও তিনি আসেননি। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদপত্রে বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রকাশ করা হয় বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
উদ্ধারকৃত মালামাল জাহাজ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আটককৃত ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।