বৈশাখের তীব্র তাপদাহে পুড়ছে মোংলার জীবন ও প্রকৃতি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের তীব্রতাও বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। ক্রমাগত তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। গ্রাম থেকে জেলা শহর সর্বত্রই পরিস্থিতি শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠছে। এ ছাড়া তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা প্রাণিকুলে।
তবে, তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় আছেন শ্রমজীবী মানুষ। ভ্যান চালক থেকে শুরু করে দিনমজুর, জীবিকা নির্বাহকারী প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। যখন খুশি গরমে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। জীবিকার তাগিদে এই তীব্র তাপদাহেও তাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে, তবুও গরমের কারণে তাদের আয়ও কমে গেছে। তীব্র তাপদাহে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ ছাতা মাথায় অথবা রিকশায় চলাচল করলেও সে সংখ্যা খুবই কম। স্বস্তিতে নেই সাধারণ ব্যবসায়ীরাও।
তীব্র গরমের কারণে দিনের বেলা বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার দেখা মিলছে কম। খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। বাজারে বেড়েছে সবজির দাম। এদিকে তীব্র গরমের কারণে সকর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মোংলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। আজ রবিবার (১১ মে) মোংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন মোংলা আবহাওয়া অফিস।
রাজীব নামে একজন ভ্যান চালক বলেন, মনে হচ্ছে আগুন জ্বলছে। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে, রিকশা চালানো কঠিন। রাস্তার তাপ আমার মুখে পুড়ে যাচ্ছে; মনে হচ্ছে আমার মুখ পুড়ে যাচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, তীব্র রোদে আমার শরীর পুড়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে রাস্তা থেকেও তাপ বেরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে রাস্তার পাশে ছাতার নিচে বসে থাকাও সম্ভব নয়। ক্রেতারা সকালে এসে একটু কেনাকাটা করে চলে যান।
কাপড় ব্যবসায়ী মো: রিপন হাওলাদার বলেন, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। গরমের কারণে দিনের বেলায় দোকানগুলোতে খুব একটা খরিদ্দাররা আসছেন না। সন্ধ্যায় সামান্য কয়েকজনের আনাগোনা দেখা যায়। শহরের সব বিপণিবিতানগুলোতে একই পরিস্থিতি। তবে চাহিদ বেড়েছে লেবুর সরবতের।
তীব্র গরম পরিস্থিতিতে সবাইকে বাইরে চলাচলে ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো: শাহিন বলেন, বাইরে সাবধানতার সঙ্গে চলাচলের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। তা না হলে পানি শূন্যতা থেকে জন্ডিস, ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে এই তীব্র গরমে।
তিনি বলেন, গরমের তীব্রতার কারণে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পানিশূন্যতা এড়াতে ঘন ঘন পানি পান করা উচিত। ডায়রিয়া এবং জন্ডিস এড়াতে ভাজা এবং তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।