ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় মিনি কক্সবাজার মৈনট ঘাটে ঘুরতে আসা পর্যটকদের পিটিয়ে আহত করেছেন মৈনটের 'পদ্মা খাবার হোটেল'-এর মালিক মোতালেব ও তার দলবল। গতকাল সোমবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মৈনট ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় উপস্থিত শাহীন নামে এক পর্যটক জানান, আমরা হোটেলের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। এমন সময় দেখি হোটেলের ভেতরে কয়েকজন কাস্টমারকে হোটেলের মালিক ও স্টাফরা বকাঝকা করছে। হোটেলের স্টাফরা বিভিন্ন ধরনের জিনিস নিয়ে কাস্টমারদের মারার চেষ্টা চালায়। তখন স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে কাস্টমারদের পাঠিয়ে দেন।
তিনি আরো বলেন, এর কিছুক্ষণ পরে যখন ওই পর্যটকরা মৈনট থেকে চলে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠতে যান তখনই মোতালেবের স্টাফসহ বা্ইরের আরো কয়েকজন মিলে পাশে চাকার দোকান থেকে কয়কটি রড এনে তা দিয়ে পিটিয়ে তাদের আহত করে। আসলে এটা খুবই দুঃখজনক যে, পর্যটকদের এভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এটা কখনই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে আহত পর্যটক সুরুজ বলেন, আমরা পদ্মা খাবার হোটেলে খাবারের জন্য যাই। হোটেলের স্টাফদের খারাপ ব্যবহারের জন্য একপর্যায়ে তাদের সাথে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। যখন হোটেলের এক স্টাফ আমাকে মারার জন্য এগিয়ে আসে আমি আত্মরক্ষার্থে তার গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হই। পরে লোকজন বিষয়টি সমাধান করে দিলে আমরা চলে যাই। যখন আমরা মৈনট থেকে একেবারে চলে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠতে যাবো তখন হোটেলের কয়েকজন স্টাফসহ আরো কয়েকজন আমাদের ওপর লোহার পাইপ নিয়ে হামলা করে। আমাদের সাথে থাকা মহিলাদেরও তারা আঘাত করে।
মৈনট ঘাটের স্থানীয় কয়েকটি হোটেল কতৃপক্ষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সেই সাথে তারা বলেন, পর্যটকদের গায়ে হাত তোলা বড় ধরনের অপরাধ। এর ফলে মৈনট ঘাটের সুনাম নষ্ট হবে। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা হোটেল কতৃপক্ষকে পর্যটকদের গায়ে আঘাত করতে নিষেধ করেন। কিন্তু হোটেল মালিক মোতালেব সংবাদকর্মীদের কথা উপেক্ষা করে তার স্টাফ ও কয়েকজন ভাড়াটিয়া গুণ্ডা দিয়ে পর্যটকদের পিটিয়ে আহত করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এভাবে পর্যটকদের সাথে খারাপ ব্যবহার কাম্য নয়। আমাদের বাধা অতিক্রম করে মোতালেবের স্টাফসহ বাইরের কিছু লোক পর্যটকদের পিটিয়ে আহত করে। আমরা ফেরানোর চেষ্টা করলেও মোতালেবের স্টাফ নামের গুণ্ডাবাহিনী তা শোনেনি। এরকম ঘটনা মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনট ঘাটের সুনাম নষ্ট করবে। হোটেল মালিক ও স্টাফদের আরো নম্র-ভদ্র হতে হবে বলে আমরা মনে করছি।
এ বিষয়ে মোতালেবের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি আমার স্টাফদের তাদের মারতে বলিনি।
এ ঘটনায় উপস্থিত সকল পর্যটকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এই হোটেল কতৃপক্ষের প্রকৃত বিচার আশা করছেন।
এ বিষয়ে দোহারের মাহামুদপুর তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা এসআই অমিত হাসান বলেন, মারামারির বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ বিষয় নিয়ে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। যদি কেউ এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।