ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো শীতলা মায়ের ৯৭ তম অর্চনা। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে রাজারামপুরের ঐতিহাসিক জমিদার বাবু বীরেন পোদ্দারের জমিদারি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই শীতলা মায়ের মন্দির।
এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন সমসাবাদ নিবাসী বুদ্ধু ঠাকুর। জনশ্রুত আছে অতীতকালে বসন্ত রোগের মহামারী থেকে রক্ষার পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দেবীর আরাধনা করা হতো। তখন বসন্ত রোগের কোন প্রতিষেধক না থাকায় এটি মহামারী আকার ছড়িয়ে পড়তো। তাই ধর্মপ্রাণ সনাতনীরা বিশ্বাস করতো শীতলা মায়ের প্রার্থনা করলে বা পূজা করলে এই রোগ থেকে পরিএান পাওয়া সম্ভব। তাইতো তৎকালীন সময় জমিদার কিংবা ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ উদ্দোগে বিভিন্ন সময়ে মায়ের মন্দির ও মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
এরকম পরবর্তী সময় মন্দির নির্মাণ করে। আর প্রচলিত হয় দেবী আরাধনার। রাজারামপুরের জমিদার পরিবার এমনই ভাবে বিভিন্ন মন্দির স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ধর্মানুশীল, শিক্ষা ব্যবস্থা, সবকিছুতে নিজেদের ও পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে।আজ ৯৭ তম এই আরাধনে রাজারামপুর বড়নগর, সাদাপুর, গোপালপুর, গোয়ালনগর, সামসাবাদ, মাধবপুর, বৈরাহাটি, খন্দকার হাটি সহ আশেপাশের সকল ধর্মপ্রান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক মিলন মেলায় পরিণত হয় সকাল থেকেই।
মন্দির পরিষ্কার ধোয়া মুছা পুরনো প্রতিমা বিসর্জন ও নতুন প্রতিমা প্রতিস্থাপন যেন আনন্দের বন্যায় ভেসে যায় সনাতন তরুণ প্রজন্ম। সকাল দশটায় এলাকার কিশোর তরুণ পৌড় ও বয়স্কদের সমন্বয় পরিক্রমার আয়োজন করা হয় এই পরিক্রমায় সকল সনাতনের গ্রহে গিয়ে পূজায় উপস্থিতির আমন্ত্রণ জানানো হয় এই পরিক্রমায় ছিলেন বাবু ভাগবত সাহা সুব্রত কুমার রায়,অর্জুন সাহা, সূর্যকান্ত চক্রবর্তী সহ অনেক তরুণ প্রজন্ম। বিকেল ৪:৩০ মিনিটে পরিক্রমা সমাপ্ত করে যখন আমরা মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হই তখন ভক্তবৃন্দের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশেষ করে মায়েদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রত্যেকেই উপবাস থেকে মায়ের পূজা করার জন্য সমবেত হয়েছে। ৪:৩০ মিনিটে মন্দিরে পূজা পরিচালনার জন্য উপস্থিত ছিলেন রাজারামপুরের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন পুরোহিত এবং গোস্বামী বংশের দোস্ত বংশধর বাবু সমরেন্দ্রনাথ গোস্বামী। পূজা আরম্ভ করে সন্ধ্যার পূর্বেই পুষ্পাঞ্জলি ও অারতি সম্পন্ন করে যজ্ঞের ফোটা প্রদানের মাধ্যমে মায়ের পূজা সমাপ্ত হয়। ভক্তবৃন্দ প্রসাদ গ্রহণ করে আবার আগামী বছর মাকে আরাধনা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মায়ের চরণে প্রার্থনা প্রদান করে এবং যার যার গৃহে চলে যায়। সবাই বলে "আসছে বছর আবার হবে" জয় মা শীতলা"।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।