নবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোঃ মারুফ (১৫) নামে এক কিশোর ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা যন্ত্রাইল-শোল্লা রোডের যন্ত্রাইল গ্রামের কাওসারের পোল্ট্রি ফার্মে পানির মোটরের সইচ থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
যন্ত্রাইল ইউনিয়নের জালালচর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নিহত মোঃ মারুফ। জানা যায় সে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতো। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে যন্ত্রাইল ব্রীজের ঢালে যন্ত্রাইল কেন্দ্রী মসজিদের কাছে কাওসারের পোল্ট্রি ফার্মে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতে আসে।
ফার্মের পাশের পুকুরে পড়ে থাকা একটি বিদ্যুতের তার মেরামত করে মারুফ। এসময় তার শরীরে পানিতে ভিজে যায় সে মোটরের সুই মেরামতের সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানা যায় যে, শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোঃ মারুফের সাবেক শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২০১৫ সালের কথা, ৭/৮ বছর বয়সে মাদ্রসায় ভর্তি হয়, তখন আমি ছোট রাজাপাড়া মাদ্রাসায়, আমার রুহানি সন্তান মারুফ, নিজের হাতে গোসল করিয়িদিতাম, খাবার খাইয়ে দিতাম, আমার কাছেই মক্তবে কোরআন পড়েছে, কিতাব বিভাগে নাহুবেমির পর্যন্ত আমার কাছে পড়া শেষ করেছে, ২০২১ সালে বার্ষিক মাহফিলে, মাদ্রাসার ছাত্রদের মধ্যে সব চেয়ে খেদমতে ১ নাম্বার হয়ে পুরস্কার পেয়েছে। ছোট রাজপাড়া প্রত্যেকটি মানুষের সাথে মারুফ এর ছিল সুসম্পর্ক।
১ মাস আগেও বর্তমান মাদ্রাসার ছাত্রদের সামনে মারুফের প্রশংসা করেছি এবং দোয়া করেছি। যদি বলি অর মা-বাবার চেয়ে আমাকে বেশি ভালবাসতো তাও ভুল হবে না, কারণ আমিও মারুফ কে অনেক স্নেহ করতাম ভালবাসতাম, যে কারনে আমার কথা কখনো বরখেলাফ করতো না।
আমি নিজে জানাজা পড়িয়েছি কান্নায় বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সুমন
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: মাঝিরকান্দা (মৃধাকান্দা কাঠালীঘাটা রোড), নবাবগঞ্জ, ঢাকা-১৩২০।